• ৮ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

FIFA World Cup 2026,

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ জিতেই গোলপোস্টের নেট কেটে নেন কেন ফুটবলাররা? জানুন রীতির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসে যখন গোটা দল মেতে উঠেছে, তখন একটি পরিচিত দৃশ্য আবারও ধরা পড়ল। স্পেনের একাধিক ফুটবলার কাঁচি হাতে গোলপোস্টের নেট কেটে নিজেদের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দিলেন। একই দৃশ্য প্রায় প্রতি বিশ্বকাপ, ইউরো কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পর দেখা যায়।অন্যদিকে ক্রিকেটেও বড় টুর্নামেন্ট জেতার পর বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের পিচের দুই প্রান্তের স্টাম্প বা উইকেট খুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রশ্ন উঠতেই পারেএই রীতি কোথা থেকে এল? কেনই বা চ্যাম্পিয়নরা মাঠের এই অংশগুলো নিজেদের কাছে স্মৃতি হিসেবে তুলে রাখেন?স্মৃতিকে ধরে রাখার এক অনন্য ঐতিহ্যক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে এমন মুহূর্ত হয়তো একবারই আসে। তাই সেই ঐতিহাসিক দিনের একটি বাস্তব স্মৃতি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান অনেকেই।ফুটবলে গোলপোস্টের নেট এবং ক্রিকেটে স্টাম্পএই দুটি জিনিসই সেই ম্যাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে নেটে জয়ের গোল জড়িয়েছে কিংবা যে উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লেখা হয়েছে, সেটিই হয়ে ওঠে সাফল্যের প্রতীক।ফুটবলে নেট কাটার রীতি কবে থেকে?ফুটবলে গোলপোস্টের নেট কেটে নেওয়ার রীতির নির্দিষ্ট কোনও আনুষ্ঠানিক সূচনা নেই। তবে ক্রীড়া ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশক থেকে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন কলেজ ও পেশাদার খেলাধুলায় এই সংস্কৃতির প্রচলন শুরু হয়।বিশেষ করে বাস্কেটবলে এনসিএএ (NCAA) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর খেলোয়াড় ও কোচেরা সিঁড়ি বেয়ে উঠে বাস্কেটের জাল কেটে নেওয়ার যে ঐতিহ্য গড়ে ওঠে, তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাতেও একই ধরনের আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় টুর্নামেন্টে অনেক সময় খেলোয়াড়রা গোলপোস্টের নেটের ছোট একটি অংশ কেটে পরিবারের সদস্যদের উপহার দেন কিংবা নিজেদের ট্রফি কেবিনেটে সংরক্ষণ করেন।ফিফা কি এতে আপত্তি করে?না। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরে খেলোয়াড়রা নেটের ছোট অংশ কেটে নিতে পারেন। তবে সেটি অবশ্যই আয়োজকদের অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থেকে করা হয়। অনেক সময় মাঠকর্মীরাই খেলোয়াড়দের নেট কেটে দিতে সাহায্য করেন।ক্রিকেটে স্টাম্প নিয়ে যাওয়ার শুরু কীভাবে?ক্রিকেটে ম্যাচ শেষে স্টাম্প তুলে নেওয়ার ইতিহাস আরও পুরনো। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই বিশেষ ম্যাচ বা ঐতিহাসিক জয়ের স্মারক হিসেবে স্টাম্প সংরক্ষণের রেওয়াজ ছিল।ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বকাপ, অ্যাশেজ, আইপিএল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিংবা অন্য বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল জয়ের পর বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের স্টাম্প খুলে নিতে দেখা যায়।অনেক খেলোয়াড় সেই স্টাম্পে পুরো দলের স্বাক্ষর করিয়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখেন। কেউ আবার তা নিজের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি, জাদুঘর বা পরিবারের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করেন।শুধু আবেগ নয়, ইতিহাসেরও অংশগোলপোস্টের নেট কিংবা স্টাম্পএগুলি আসলে কোনও সাধারণ সরঞ্জাম নয়। এগুলি সেই মুহূর্তের সাক্ষী, যখন একটি দল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাই ট্রফির পাশাপাশি এই ছোট্ট স্মৃতিচিহ্নও খেলোয়াড়দের কাছে অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে।হয়তো বহু বছর পরে কোনও জাদুঘরে কিংবা নিজের ঘরের ট্রফি কেবিনেটে রাখা সেই নেটের টুকরো বা স্টাম্প দেখে আবার ফিরে আসবে সেই বিশ্বজয়ের রাত, দর্শকদের গর্জন আর সাফল্যের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তিনিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের ফুটবলারদের গোলপোস্টের নেট কেটে নিতে দেখা যাওয়ায় আবারও প্রমাণ মিললসময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু চ্যাম্পিয়নদের আবেগ বদলায়নি। ট্রফি জয়ের আনন্দের সঙ্গে মাঠের একটি ছোট্ট অংশকে স্মৃতি হিসেবে বয়ে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহ্য আজও বিশ্ব ক্রীড়ার অন্যতম সুন্দর ও আবেগঘন অধ্যায়

জুলাই ২০, ২০২৬
দেশ

‘ধন্যবাদ, ভারত!’ বিশ্বকাপ হারলেও ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এই বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতীয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আবারও ধন্যবাদ, ভারত!বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে বহুবার রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।Deeply grateful to the Indian People for the endless displays of support for the Argentine team during this latest World Cup. Thank you, India, once again! pic.twitter.com/kd9hmTBnON Mariano Caucino (@CaucinoMariano) July 20, 2026তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেসিদের।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেন।এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির। একইসঙ্গে ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও ভেঙে যায়।তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বরাবরের মতোই নজর কেড়েছে। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো।বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া হলেও, ভারত ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাই যেন তারই প্রমাণ।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

স্পেনের সোনালি রাত, মেসিদের নিস্তেজ বিদায়! একচ্ছত্র আধিপত্যে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল লা রোজা

১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের শিখরে উঠে এল স্পেন। নিউ জার্সির দর্শকাসনে অধিকাংশ সমর্থক আর্জেন্টিনার হলেও মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে লা রোজা। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় মুহূর্তে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই সম্ভবত বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। তবে বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে কার্যত খুঁজেই পাওয়া যায়নি। স্পেনের দুর্দান্ত প্রেসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের নিখুঁত পরিকল্পনার সামনে অসহায় দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।শুরু থেকেই স্পেনের দখলে ম্যাচফাইনালের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে একের পর এক আক্রমণ গড়ে ওঠে। দুই প্রান্তে লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনার গতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলে।অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা যেন শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছিল। বলের দখল হারিয়ে প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়েই নিজেদের অর্ধে ডিফেন্ড করতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় স্কালোনির দলকে। মেসির কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার মতো কার্যকর কোনও পরিকল্পনাই চোখে পড়েনি।মেসিকে ঘিরে স্পেনের নিখুঁত পরিকল্পনাবিশ্বকাপের বড় ম্যাচে বহুবার একাই দলের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এই ফাইনালে তাঁকে কার্যত ম্যাচের বাইরে রেখেছিল স্পেন।প্রথম ২০ মিনিটে মেসি মাত্র দুবার বল স্পর্শ করেন। গোটা প্রথমার্ধেও তাঁর কাছে বল খুব কমবার পৌঁছায়। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল কিংবা লিয়ান্দ্রো পারেদেস কেউই মাঝমাঠে স্পেনের চাপে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেননি। ফলে আক্রমণ গড়ার আগেই থেমে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনার প্রতিটি প্রচেষ্টা।পরিসংখ্যানই বলছে কার দাপট ছিলম্যাচের পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, স্পেন কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল।বলের দখল: স্পেন ৬৮%, আর্জেন্টিনা ৩২%মোট শট: স্পেন ২০, আর্জেন্টিনা ৩গোলমুখে কার্যকর আক্রমণেও ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্যকর্নার, সফল পাস ও আক্রমণ প্রায় সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি।সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট পর্যন্ত স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।লাল কার্ডে আরও কঠিন হয়ে ওঠে পরিস্থিতিঅতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার আশা আরও ফিকে হয়ে যায় এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে। প্রথম হলুদ কার্ড দেখার পরও নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বার ফাউল করায় রেফারি তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।দশ জনে নেমে যাওয়ার পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।১১৬ মিনিটে এল বিশ্বজয়ের মুহূর্তম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ফাইনালের সিদ্ধান্ত।ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর দীর্ঘ ক্রস গোললাইনের কাছে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। তাঁর নিখুঁত হেডে বল পৌঁছে যায় ফেরান তোরেসের সামনে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা মুহূর্তের জন্য অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তোরেস।স্টেডিয়াম স্তব্ধ। আর স্পেনের বেঞ্চে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।স্কালোনির কৌশল ব্যর্থফাইনালে তিনটি পরিবর্তন করেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরু থেকেই নামানো হয়েছিল মাঝমাঠ ও প্রান্তের লড়াই শক্তিশালী করতে।কিন্তু পরিকল্পনার কোনওটাই সফল হয়নি। মন্তিয়েলকে প্রান্তে ওঠার সুযোগ দেয়নি স্পেন। দি পল মাঝমাঠে বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। পারেদেসও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে গোটা দলই ছন্দ হারিয়ে ফেলে।বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা প্রমাণ করল স্পেনপুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আক্রমণাত্মক, দ্রুতগতির ও পজেশন-ভিত্তিক ফুটবল খেলেছে স্পেন। ফাইনালেও সেই একই দর্শন বজায় রেখে তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কোনও সুযোগই দেয়নি।অন্যদিকে, নকআউটে একাধিকবার পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। রক্ষণে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শেষ পর্যন্ত তাদেরই সর্বনাশ ডেকে আনে।১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতে স্পেন প্রমাণ করে দিল, আধুনিক ফুটবলে কেবল তারকা নয়, দলগত ছন্দ, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিকতাই সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। আর আর্জেন্টিনার কাছে এই হার শুধু একটি ট্রফি হারানোর কষ্ট নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির স্বপ্নযাত্রারও এক বেদনাময় সমাপ্তি হয়ে রইল।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘লিও, দয়া করে থেকো…’ মেসির উদ্দেশে ১৫ বছরের এনজোর আবেগঘন চিঠি ফের ভাইরাল, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

স্পোর্টস ডেস্ক | জনতার কথা২০১৬ সালে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠি ফের ভাইরাল।২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সময় গোটা আর্জেন্টিনার মতোই ভেঙে পড়েছিলেন এক কিশোর ফুটবলারএনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের ফুটবল-আইডল মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন। দশ বছর পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠিই আবার ভাইরাল হয়েছে।চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, লিও, দয়া করে থেকে যাও। আমাদের ক্ষমা করে দাও। খেলাটা শুধু আনন্দের জন্য খেলো। তুমি আমাদের অসীম আনন্দ দিয়েছ। তোমার মতো কাউকে আর কখনও পাব না। সেই সময় তিনি অনুরোধ করেছিলেন, সমালোচকদের জন্য নয়, বরং কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের জন্য যেন মেসি জাতীয় দলে থেকে যান।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তভাগ্যের কী আশ্চর্য পরিহাস! যে কিশোর একদিন মেসিকে অবসর না নিতে অনুরোধ করেছিল, আজ সেই এনজোই আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন এনজো। এখন দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।মেসি শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনা জেতে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং আরও একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য। সেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজও। ফলে ২০১৬ সালের সেই আবেগময় চিঠি এখন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে শুধুই একটি পোস্ট নয়, বরং স্বপ্ন, বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফুয়েন্তের কৌশলের কাছে অসহায় ফ্রান্স, এমবাপেকে নিষ্ক্রিয় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

স্পেনের আধিপত্য, লুই দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত কৌশল এবং দুর্দান্ত দলগত ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ফ্রান্স। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল লামিনে ইয়ামালদের স্পেন। ম্যাচজুড়ে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের মতো তারকাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখে প্রমাণ করে দিল স্প্যানিশরা কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা যাচ্ছিল স্পেন আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। বলের দখল, দ্রুত পাসিং এবং মাঝমাঠে চাপ তৈরি করে ফরাসিদের নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখার চেষ্টা করেন লুই দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। অন্যদিকে দিদিয়ের দেশঁর দল কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় থাকলেও স্পেনের সুচিন্তিত অফসাইড ট্র্যাপ সেই পরিকল্পনাকে বারবার ব্যর্থ করে দেয়।পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং পেদ্রো পোরোর নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ এমনভাবে লাইন ধরে খেলছিল যে এমবাপে ও দেম্বেলে একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন। বিশেষ করে এমবাপেকে প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন কুবারসি। ফলে ফরাসি অধিনায়ক নিজের স্বাভাবিক গতিতে খেলাই গুছিয়ে উঠতে পারেননি।প্রথম দশ মিনিটেই স্পেন একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক পেলেও গোল আসেনি। তবে ২০ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালের গায়ে লাথি মেরে বসেন লুকাস ডিগনে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে অনায়াসে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজ়াবাল। দেশের জার্সিতে চলতি মৌসুমে এটি তাঁর ১৪তম গোল, যা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের নতুন নজির।গোল হজম করার পর ফ্রান্স কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল বাড়ালেও শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এমবাপে ও দেম্বেলে কয়েকটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন অসাধারণ দক্ষতায় দুবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। বিপরীতে ইয়ামাল, ওয়ারজ়াবাল এবং আলেক্স বায়েনা নিয়মিতভাবে ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।এরই মধ্যে ৩০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফ্রান্সের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম স্যালিবা। তাঁর পরিবর্তে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া নামলেও রক্ষণে স্থিতি ফেরাতে পারেনি ফরাসিরা।দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং অফ দ্য বল মুভমেন্ট বারবার ফরাসিদের হতাশ করে। অন্যদিকে প্রতি আক্রমণে ধার বজায় রাখে স্পেন।৫৮ মিনিটে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফরাসি রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁক কাজে লাগিয়ে বল পান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।দুই গোলে পিছিয়ে পড়তেই দেশঁ একের পর এক পরিবর্তন করেন। ব্র্যাডলি বার্কোলার জায়গায় নামানো হয় ডেজ়িরে ডুয়েকে। পরে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস ডিগনের পরিবর্তে মাঠে আসেন রায়ান চেরকি ও থিয়ো হার্নান্দেজ়। কিন্তু পরিবর্তনেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। বরং স্পেনের রক্ষণ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফরাসি আক্রমণ সামাল দেয়।৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল জালে বল জড়ালেও সামান্য অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবুও তরুণ স্প্যানিশ তারকা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতায় ফরাসি রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন।ম্যাচের শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ৮৭ মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রিকিক পেলেও এমবাপের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সংযুক্ত সময়েও উসমান দেম্বেলের জোরালো শট অসাধারণ সেভ করে দেন উনাই সিমন। শেষ পর্যন্ত আর গোল শোধ করতে না পেরে ২-০ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল স্পেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে দাপটও বজায় রাখল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে, বড় মঞ্চে দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও লিওনেল মেসির মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপে। পুরো ম্যাচে স্পেনের পরিকল্পিত ফুটবল, রক্ষণশৈলী এবং দলগত সমন্বয়ই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মারাদোনার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের শিখরে মেসি! গোলেও একের পর এক নজির

বয়স যত বাড়ছে, ততই যেন নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুধু দলকে জেতাতেই বড় ভূমিকা নেননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা এতদিন ছিল আর্জেন্টিনার আর এক কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার দখলে।ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড় করালেন ৯-এ। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের মালিক এখন এককভাবে লিওনেল মেসি। এতদিন ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল দিয়েগো মারাদোনার নামে। সেই নজির ভেঙে আরও একবার নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।গোল করাতেও অতুলনীয় মেসিফুটবল বিশ্বে মেসিকে সাধারণত অসাধারণ গোলদাতা হিসেবেই বেশি চেনা হয়। তবে তাঁর খেলার অন্যতম বড় শক্তি হল সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। নিখুঁত পাস, অসাধারণ ভিশন এবং ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকারেও পরিণত করেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই দক্ষতারই আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ মিলল।বিশ্বকাপে ৯টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরও প্রতীক।গোলেও নতুন মাইলফলকঅ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল করেও ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে দুরন্ত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।এই গোলের সুবাদে আরও একটি অনন্য নজির গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুটি পৃথক বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান মেসি।গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই সাতটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসি। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে ছয় গোল করে খুব কাছেই রয়েছেন। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই জমে উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রতিযোগিতা।নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে আর্জেন্টিনার জয়কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলই ২-২ গোলে সমতায় ছিল। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক আত্মঘাতী গোলে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির নেওয়া একটি শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনে বোরজেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।এই জয়ের সুবাদে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। আর ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু গোল করার জন্যই নন, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ইতিহাস সৃষ্টিদুই ক্ষেত্রেই অনন্য। প্রতিটি ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি যেন নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক?' আর্জেন্টিনার জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা, ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিল লা অ্যালবিসেলেস্তে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চমক, নাটকীয়তা আর নানান ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী। কখনও অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী, কখনও আবার কার্টুন সিরিজ The Simpsons-এর কাকতালীয় মিলপ্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন নানা ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এবার সবকিছুকে ছাপিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন ঘানার এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, লিওনেল মেসিদের দল নাকি কেপ ভার্দের কাছেই আটকে যাবে এবং প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারবে না। তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কেউ সেটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিলেও, অনেকেই আবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন।কিন্তু মাঠে নেমে সব হিসেবই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট ধরে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা নিশ্চিত করে লা অ্যালবিসেলেস্তে। কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া এই জয় শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরই উচ্ছ্বসিত করেনি, একইসঙ্গে ঘানার সেই তান্ত্রিকের দাবিকেও সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।আর্জেন্টিনার জয়ের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে হাস্যরসের ঝড়। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক? কেউ লিখছেন, ধরে আন ব্যাটাকে! আবার কেউ মিম বানিয়ে দেখাচ্ছেন, ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হতেই তিনি নাকি গায়েব হয়ে গিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মিম এবং ট্রোল ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।ঘটনার মজার দিক আরও একটি। যে ঘানার তান্ত্রিক আর্জেন্টিনার বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেই ঘানার দলই শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে সমর্থকদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, অন্যের ভাগ্য গণনা করতে গিয়ে নিজের দলের ভবিষ্যৎই দেখতে পেলেন না!ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও ফলাফল মেনে নেয় না, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ যেন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কুসংস্কার, অলৌকিক দাবি কিংবা ভাইরাল ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াই, কৌশল এবং ফুটবল দক্ষতাই যে আসল কথাতা আরও একবার প্রমাণ করলেন মেসিরা।এখন শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর। তবে এই মুহূর্তে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় একটাইঘানার সেই তান্ত্রিক এখন

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে ড্র করতেই বড় অপমান! ইরান দলকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ, ফিফায় অভিযোগের ঝড়

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই বড় বিতর্কে জড়াল ইরান। মাঠে দুরন্ত লড়াইয়ের পর ম্যাচ ড্র করলেও মাঠের বাইরের ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরানের ফুটবল মহল। অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ইরান ফুটবল দলকে আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান। প্রথম ম্যাচে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে লড়াই করে মূল্যবান ফলও অর্জন করে তারা। কিন্তু ম্যাচের পরই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, শুধুমাত্র ম্যাচে অংশ নেওয়ার সময়সীমার জন্যই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ইরানের ফুটবলারদের। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তাদের আবার মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হয়েছে।ইরানের পরবর্তী ম্যাচের আগে দলটি কয়েক দিন আগেই আমেরিকায় গিয়ে অনুশীলন ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেই আবেদনও নাকচ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এতে দলের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই সমস্ত প্রস্তুতির সূচি জমা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও নানা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে দলকে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আসরে অংশ নিতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াকে অন্যায্য বলেই মনে করছে ইরান। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব এই ঘটনার পিছনে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলেই মত অনেকের।এই বিতর্কের মাঝেই এখন ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচ। মাঠের বাইরের চাপ সামলে ফুটবলাররা কতটা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেন, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে খেলাধুলার চেয়ে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও নতুন করে উঠতে শুরু করেছে। আর সেই কারণেই ইরানকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

জুন ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জাদুতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুড়ন্ত সূচনা! হ্যাটট্রিক করে ছুঁলেন ক্লোজেকে, ইতিহাসের আরও কাছে লিও

বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বড় ম্যাচের নায়ক হওয়ার ক্ষমতা এখনও অটুট। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের পাশে নিজের নামও তুলে দিলেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল আলজেরিয়া। নবম মিনিটে ফারেস চাইবির শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। সেখান থেকেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।এরপর নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায় মেসিকে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। সেই শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান, যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র।প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট গোলকিপারের হাতে প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে সহজেই জালে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।তবে আসল জাদু দেখা যায় ৭৬ মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে, যা তাঁকে মিরোস্লাভ ক্লোজের সমতুল্য স্থানে পৌঁছে দেয়।হ্যাটট্রিকের তিন মিনিট পর কোচ তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। যদিও মেসির মুখে কিছুটা হতাশার ছাপও ধরা পড়ে, কারণ তিনি আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে আগামী ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।এই ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধুমাত্র পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং কুয়েতের বাদার আল-মুতাওয়া।বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য চোট পেয়েছিলেন মেসি। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আগেই নিজের ফিটনেসের বার্তা দিয়েছিলেন।এদিকে মেসির হ্যাটট্রিক কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে বিশ্বফুটবলের আরও দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের পারফরম্যান্সকেও। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপে জোড়া গোল করেছেন সেনেগালের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে দুই গোল করেছেন হালান্ড।বিশ্বকাপ অভিযান জয়ে শুরু করলেও আর্জেন্টিনার সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। তবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এখনও অন্যতম বড় দাবিদার আর্জেন্টিনা।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের মাঝেই নতুন আতঙ্ক! কঙ্গোয় বাড়ছে ইবোলা, চিন্তায় ফুটবল বিশ্ব

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, চলতি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে কঙ্গো। বুধবার তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার কথা।সংক্রমণের পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো দলের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন শিবির করার পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচও বাতিল করতে হয়েছে বলে খবর।পরবর্তীতে দলকে নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখার পরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বেলজিয়ামে কিছুদিন কাটানোর পর কঙ্গো দল সম্প্রতি প্রতিযোগিতার জন্য পৌঁছেছে।তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের যাতায়াত নিয়ে। কঙ্গো থেকে আসা দর্শকদের প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কঠোর নজরদারির কথাই জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইবোলা ভাইরাস সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। সেই কারণে বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সংক্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবুও কোনও রকম ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।গত মে মাসে প্রথম কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের খবর সামনে আসে। তারপর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে।বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে আয়োজক দেশ এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিকেও।

জুন ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাঠে নামেননি নেইমার, তবু ব্রাজিলের গোলের নেপথ্যে তিনিই! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা

চোটের কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। শুধু তাই নয়, তিনি রিজার্ভ বেঞ্চেও ছিলেন না। তবু ম্যাচের অন্যতম আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, মাঠে না নেমেও ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ গোলের নেপথ্যে ছিলেন নেইমারই।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল চাপে পড়ে গেলেও ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বাঁদিক থেকে ব্রুনো গিমারেসের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষক ইয়াসির বোনোর কিছুই করার ছিল না।তবে গোলের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, প্রথমার্ধে জলপান বিরতির সময় মাঠের ধারে এসে ভিনিসিয়াসের সঙ্গে কথা বলছেন নেইমার। কিছুক্ষণ পরে ব্রুনো গিমারেসকেও ডেকে পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিও দেখে অনেকের ধারণা, ভিনিসিয়াসকে আরও বেশি করে বক্সের ভিতরে ঢুকে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন নেইমার। কারণ ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বাইরে খেলতে দেখা গিয়েছিল।মজার বিষয় হল, সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই গিমারেসের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়াস। আর সেই কারণেই সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, মাঠের বাইরে থেকেও ব্রাজিলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন নেইমার।যদিও এই ম্যাচে খেলেননি তিনি, তবে পরের ম্যাচে নেইমারকে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সমর্থকের মতে, দলটিকে একেবারেই চেনা ব্রাজিলের মতো লাগেনি। রাফিনহাদের খেলায় ধার ও গতি দুটোরই অভাব ছিল। অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন তারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জুন ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক! সেনেগাল ফুটবলারদের সঙ্গে ‘অপরাধীর মতো’ আচরণের অভিযোগ

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। তার আগেই বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। আমেরিকায় পৌঁছনোর পর সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের কড়া নিরাপত্তা তল্লাশি ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে যেন তাঁরা কোনও অপরাধী।জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমেরিকায় পৌঁছেছিল সেনেগাল দল। বিমানবন্দরে নামার পরই নিরাপত্তাকর্মীরা ফুটবলারদের ব্যাগ, ট্রলি এবং অন্যান্য সামগ্রী বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন। অভিযোগ, মাদকদ্রব্যের সন্দেহে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই তল্লাশি। ঘটনাস্থলের কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় বিতর্ক।শুধু সেনেগাল নয়, উজবেকিস্তান দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। নিউ ইয়র্কে অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর ফুটবলারদের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। সেই সময় মাদক সন্ধানী কুকুর এবং ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ফুটবলারদের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আবার অনেকে জানতে চেয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কেন এই বিতর্ক নিয়ে কোনও অবস্থান স্পষ্ট করছে না।এর আগেও বিশ্বকাপ ঘিরে বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আয়োজক দেশকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মতে, খেলাধুলার মঞ্চ সব সময় দেশ, সংস্কৃতি এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। সেখানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে অতিরিক্ত কড়া বা অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ সামনে আসা উদ্বেগের বিষয়। যদিও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।বিশ্বকাপের মতো বৃহত্তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের।

জুন ১০, ২০২৬

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal